Exclusive

ঘুম থেকে উঠে দেখি পাছা ব্যথা করছে !

অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম আগের থেকে কিছুটা কমলেও সম্প্রতি ঢাকায় নাকি এদের মতই আরেকটি দুর্ধর্ষ অপরাধ চক্র নেমেছে, যাদের টার্গেট শুধুমাত্র ১৮-২২ বয়সী ছেলেরা। বাসে নেশাজাতীয় স্প্রে করে অজ্ঞান করার পর এসব ছেলেদের গোপন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বিশেষ স্বার্থ হাসিল করা হচ্ছে বলো জানা যায়।

অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হওয়া এরকমই এক তরুণ মোসাদ্দেক সাংবাদিকদের জানান, তার মুখের সামনে এক লোক এসে বডিস্প্রে মেরে দিয়েছিলো। তারপর আর কিছু মনে নেই।
মোসাদ্দেক আরো বলেন, “আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি পাছা ব্যথা করছে। তখনই বুঝলাম আমার সর্বনাশ হয়েছে।”
মোসাদ্দেকের ভাষ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে অপরাধচক্রটির মূলহোতা একজন সমকামী।

পাত্রপক্ষ পাত্রী দেখতে আসার ঘটনা পাত্রের চাচীঃ মা আমার পাশে বসো। তোমার নাম কি? পাত্রী: রুকাইয়া তাবাসসুম আক্তার স্বর্ণা। পাত্রের চাচী: বাবাহ এতো বড় নাম আপনাদের মেয়ের। এতো বড় নাম হয় কারো? পাত্রীর বাবাঃ আসলে ওর দাদা শখ করে ওর নাম রেখেছিল। আমরা সবাই স্বর্ণা বলে ডাকি। পাত্রের খালুঃ স্বর্ণা মা।

তোমার চোখে কি পোকা কামড় দিয়েছে নাকি? পাত্রীঃ কই নাতো! পাত্রের খালুঃ কেমন যেন ছোট ছোট লাগছে চোখ দুইটা। পাত্রীর বাবাঃ ওর চোখ দুটো ওর মায়ের মতো হয়েছে। ছোট মেয়েটা দেখতে আবার আমার মতো হয়েছে। পাশ থেকে পাত্রের মামী বলে উঠলো: নাকটাও তো কেমন বোঁচা। চাকমা চাকমা লাগে। তারপর ফিসফিসিয়ে পাত্রের মায়ের কানেকানে বলে” ভাবী, ভবিষ্যতে বাচ্চাগুলাও কিন্তু চাকমার মতো হবে দেখে নিয়েন।” পাত্রীর বাবাঃ আল্লাহ দশ জনকে দশ রকম বানাইছে, কি আর করার!

তাছাড়া আমার মেয়ে ভাল ছাত্রী আর ঘরের কাজ টুকটাক সবই পারে৷ একটু শিখিয়ে দিলে সব ভাল করেই সামাল দিতে পারবে৷ পাত্রের মা: স্বর্ণা তুমি চুল লম্বা রাখোনা কেন? আর ঠিকমতো তোমার বাবা খাওয়ায় ও না নাকি! পাট গাছের মতো পিনপিনে পাতলা তুমি! ওপাশ থেকে পাত্রের কাজিন পাত্রের মামীকে বলছে, মেয়েটার দাঁতও উঁচুনিচু দেখো মা পাত্রের বাবাঃ দেখেন বিয়েসাদি উপরওয়ালার হাতে। আর আপনাদের মেয়েকে আমাদের মোটামুটি ভালই লেগেছে। এখন পাকাকথা শুরু করি তারপর আংটিবদলের পালা৷

পাত্রীর বাবাঃ আলহামদুলিল্লাহ। শুরু করেন। পাত্রের বাবাঃ দেখেন আমাদের কিছুই দিতে হবে না। ওরা নতুন সংসার শুরু করবে। একটা নতুন সংসারে কি আর লাগে? একটা বেড, একটা ফ্রীজ, আলমারি, ওয়্যারড্রব,ওয়াশিং মেশিন, সোফাসেট,টি টেবিল,পাপোশ, টিভি, রান্নাবান্নার জন্য চুলা সিলিন্ডার এই তো! এসব নিয়ে আর কি কথা বলবো৷ বিয়েতে দশ ভুড়ি গহনা আর আমাদের ৩০০ জন আসবে৷ এই আর কি! তো.. আংটি বদলের পালা শুরু হোক! নাকি!

স্বর্ণা হুট করে বলে ওঠে- আমি একটু আপনাদের সবার একত্রে সাথে আলাদা করে কথা বলতে চাই। যেখানে আমার ফ্যামিলির কেউ থাকবে না। পাত্রীর মাঃ তুই আবার কি বলবি? পাত্রঃ ও যখন বলতে চায়। বলুক। আমরা শুনবো। স্বর্ণাঃ মা বা পিচ্চি তোমরা ঘরেই থাকো, তোমরা কেউ আসবে না। আর পাত্রপক্ষে যারা যারা এসেছেন আপনারা সবাই আমার সাথে আসুন৷ এই বলে স্বর্ণা পাত্রপক্ষের মোট ১১ জনকে আঙ্গিনায় পেড়িয়ে দরজার কাছে নিয়ে গেল। শূণ্যে তাকিয়ে স্বর্ণা বলতে লাগলো- আপনাদের সাথে ঠিক এখানেই আমার কিছু কথা আছে।

পাত্রঃ এখানে অনেক দুর্গন্ধ। গোয়াল ঘর তো। জ্বী এটা গোয়াল ঘর। গোয়াল ঘরের কাছে কেন আনলাম জানেন? পাত্রপক্ষের সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ স্বর্ণা আবার বলা শুরু করলো, আমাদের একটাই গরু। নামটা অনেক কমন, লালি। তবে নামটা অনেক ছোট তাই না? দুই অক্ষরের লালিব৷ আমার “রুকাইয়া তাবাসসুম আক্তার স্বর্ণা” নামটা যদি এতোই বড় লাগে তবে আপনার জন্য লালি নামটাই পারফেক্ট।

তাই না? আচ্ছা, কে যেন বললেন আমার দাঁত উঁচুনিচু? এই দেখেন, আমার লালির চোয়ালের দাঁতগুলো কি সুন্দর প্যারালাল! ও শ্বাশুড়ি আম্মা আপনি আমাকে পাতলা পিনপিনে বললেন না? আমাদের লালি মাশ’আল্লাহ সাড়ে ৭ মণ। মানে বুঝেন তো! আমি তো মাত্র সোয়া মণ। আর কি যেন বললেন আমার চুলগুলা ছোট, নাক ছোট? এই যে দেখেন লালির লেজে অনেক চুল অনেক স্ট্রেইট দেখেন দেখেন স্যাম্পুও করতে হবে না কন্ডিশনারও মাখতে হবে না৷ আর নাক?

মাশ’আল্লাহ আমাদের লালির নাক ছোটখাটো একটা উল্কাপিন্ডের মতো বড়! আর শ্বশুর মশাই আমার বাবার কাছে কি যেন দাবি করলেন, বেড, একটা ফ্রীজ, আলমারি, ওয়্যারড্রব,ওয়াশিং মেশিন, সোফাসেট,টি টেবিল,পাপোশ, টিভি, রান্নাবান্নার জন্য চুলা সিলিন্ডার, গহনা.. এসব তো! আমাদের লালিকে আপনার ছেলের সাথে বিয়ে দেন।

মাশ’আল্লাহ লালি প্রতিদিন ১২ লিটার দুধ দেয়। দুই বছরেই ঐসব কিনে লালি আর আপনার ছেলেটা সুখে শান্তিতে ঘর করবে৷ তারপর একটা শংকর প্রজাতির বাচ্চা হবে। যার নাম হবে “হাম্বা স্যাপিয়েন্স। দেন আন্টি এবার আংটি বদল হোক। কিন্তু আংটিটা আমি লালির কোথায় পড়িয়ে দিবো?আপনারা সবকিছু এতো বড় বড় চান কিন্তু নিয়ে আসছেন একটা পিচ্চি আংটি! কি আর করার বলেন! দেন আংটি টা দেন, আমি বরং আংটিটা লালির দুধের বাটে(নিপলে) পড়িয়ে দিই কেমন! দেন দেন৷ অতপর নিরাশ পাত্রপক্ষ স্লো মোশনে চম্পট। অনুগল্প- হাম্বা স্যাপিয়েন্স
লেখক~ আরিয়ান