Exclusive

জেল থেকে বেরিয়ে প্রথম গোসল করলেন হিরো আলম

অবশেষে স্ত্রীর সাথে আপোস করে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন হিরো আলম। মুক্তি পাবার পরপরই বাসায় ফিরে সোনারুপার পানি দিয়ে গোসল করেছেন তিনি। গোসল করার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো তার পরিবার পরিজন সহ আরো অনেকেই। হিরো আলম চাচ্ছিলেন ডেটল বা সেভলন দিয়ে গোসল করতে। কিন্তু কুফা কাটানোর জন্য সোনারুপার পানিই সাজেস্ট করেন তার স্বজনরা।

জেল থেকে বেরিয়েই কেনো গোসল করলেন এ প্রশ্নের জবাবে হিরো আলম বলেন, জেলখানার ভিতর আরাম করে গোসল করা যায় না। পরিবেশ ভালো না। টাংকির পানিও খুব একটা সুবিধার না। টয়লেটে কোনো সাবান থাকেনা। সবাই লুঙ্গিতে হাত মুছে। এক সাবান দিয়ে সতেরো জন গোসল করে। তাই বাসায় এসে পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করে একটু ফ্রেশ হওয়া। এই আরকি !

হিরো আলম মোবাইল সাথে নিয়েই গোসলখানায় ঢুকেছে বলে নিশ্চিত করেন তার ছোট খালু এমডি জাকির।

কেনো জেল খাটলেন হিরো আলম?

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে হিরো আলম জেল খাটেন। স্ত্রীকে মারপিট ও যৌতুকের মামলায় আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে ৪৩দিন আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। এ মামলা থেকেই আপস করে জামিন পেলেন হিরো আলম। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার হিরো আলমের পক্ষে করা জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

হিরো আলম মোট ৪৩ দিন কারাভোগ শেষে জামিন পেলেন। মামলার বাদী হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম জামাইয়ের বিরুদ্ধে করা মামলাটি আপস করায় ও তার স্ত্রী সুমি বেগম স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাওয়ার কারণে এ জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করে হিরো আলমের আইনজীবী মাসুদার রহমান স্বপন বলেন, “হিরো আলমের জামিন আবেদন শুনানির সময় তার স্ত্রী সুমি বেগম উপস্থিত ছিলেন। জামিন শুনানিকালে কোনো আপত্তি জানাননি তিনি। শ্বশুর সাইফুল ইসলাম জামাইয়ের বিরুদ্ধে করা মামলাটি আপস করায় ও তার স্ত্রী সুমি বেগম স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাওয়ায় এ জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক।”

মাসুদার রহমান স্বপন আরো বলেন, হিরো আলমের স্ত্রী সুমি বেগম আদালতকে বলেছেন, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তিনি এখন স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন। অবশ্য এ সময় আদালতে হিরো আলমও উপস্থিত ছিলেন। তবে হিরো আলমের কোনো বক্তব্য শোনেননি আদালত।

গত ৬ মার্চ যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমি বেগমকে মারপিট ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে হিরো আলমের বিরুদ্ধে তার শ্বশুর সাইফুল ইসলাম বগুড়ায় সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পরই হিরো আলমকে গ্রেফতার করা হয়।