Funny

ছাত্র ফেল করায় শিক্ষককে জোর করে দুধ-আনারস খাওয়ালো অভিভাবক

এসএসসির রেজাল্ট বেরিয়েছে। যারা পাশ করেছে, তারা পার্ট নিয়ে বুকের বোতাম খুলে রাস্তায় হাঁটছে। কেউ কেউ আবার গরমের তীব্রতার মাঝে উত্তেজনার বাড়তি চাপ নিতে না পেরে গেঞ্জি খুলে ফেলেছে। নাচতে নাচতে বাসায় যাচ্ছে দুষ্ট ছেলের দল। অথচ ক্লাসের সবচেয়ে নম্র ভদ্র ছেলেটাই পাশ করেনি, যে কিনা সবসময় ঝিম মেরে পরে থাকত। গভীর মনযোগে স্যারদের কথা শুনত। ছেলেটি আজো শার্টের বোতাম খুলেনি। ছেলেটির সব আছে। মেধা আছে, মন আছে, সাথে জামাকাপড়ও আছে। আর আছে একটা গৃহশিক্ষক…

… ছাত্রের রেজাল্ট আসবে জেনে সকাল থেকে সবচেয়ে প্যারায় আছে এই গৃহশিক্ষক। সমাজের চোখে সে অবহেলিত। যে ছাত্রটিকে তিনি পড়ান, সেই ছাত্রটি বাবা মার আদরের একমাত্র সন্তান। এই ছেলে পাশ না করলে সব ঝড়ঝাপটা যাবে এই শিক্ষকের উপর। ফেল করার ঝাল অভিভাবক ছাত্রের উপর দিয়ে মেটাবেনা। মেটাবে এই গৃহশিক্ষকের উপর। এই চিন্তায় গৃহশিক্ষকের চোখে ঘুম নেই। টেনশনে সকাল থেকে প্রায় তিনটা ওরস্যালাইন খেয়ে ফেলেছেন তিনি।

দুপুরে খালি পেটে তিনি ছাত্রের বাসায় গেলেন মিষ্টি দধি খাওয়ার আশায়। গিয়ে দেখলেন, ছাত্র তিন সাবজেক্টে ফেইল করেছে। ছাত্রের মা টেবিলের উপর দুধের গ্লাস আর আনারসের বাটি নিয়ে বসে আছে। গৃহশিক্ষকের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন, “আসেন স্যার আপনাকে ভরবো”। স্যার চারপাশে তাকিয়ে দেখে কোথাও ডিম নেই। তাহলে কি ভরবে?

অজানা এক আতংকে তার মাথা থেকে কোমড় পর্যন্ত আপাদমস্তক এক অজানা শিহরণ বয়ে গেলো। আতংকে তিনি সোফার উপর শুয়ে পরলেন। তারপর যা ঘটলো, সেটাই শিরোনাম…

“এসএসসি ফেল করায় গৃহশিক্ষককে দুধের সাথে আনারস খাইয়ে দিলো ক্ষুদ্ধ অভিভাবক !”

এতক্ষণ যে উপমাটি বললাম, তা হয়ত আজকের দিনে বাস্তবে কোথাও ঘটেনি। তবে এরচেয়েও বড় বড় শাস্তির উপর দিয়ে গৃহশিক্ষকরা যাচ্ছে ! বাবা মার আস্কারায় সন্তানরা ফেল করবে, বাবা মা বসে বসে টিভি দেখবে, সন্তান হোমওয়ার্ক করছে নাকি বইয়ের আড়ালে ফোন লুকিয়ে আজেবাজে সাইটে স্ক্রল করছে, সে খবরটা তারা রাখবেনা। রেজাল্টের পর সব দায় চাপাবে গৃহশিক্ষকের উপর…

গৃহশিক্ষককে এভাবে মানসিক চাপ দেয়ার আগে নিজের সন্তানের খোঁজ নিন, দেখভাল করতে শিখুন। আপনি যা করবেন, তাই প্রভাব ফেলবে আপনার সন্তানের উপর, গৃহশিক্ষকের উপর, এমনকি পুরো দেশ ও জাতির উপর…