Bangladesh

নাকের সর্দি দিয়ে দুধ চা বানানোর সময় দোকানদার আটক

খাদ্যে ভেজালের কথা আমরা কমবেশ সবাই জানি। তবুও একরকম বাধ্য হয়েই মেনে নিয়ে সবকিছু খাই। কিন্তু তাই বলে কনডেন্স মিল্কের বদলে হিঙ্গিল? এটাও কি মেনে নিতে হবে?

প্রথমেই আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, হিঙ্গিল কি?

হিঙ্গিল হচ্ছে নোয়াখালীর একটি আঞ্চলিক শব্দ। সংস্কৃত ভাষায় একে বলা হয় সিঙ্গিল। চলিত ভাষায় অনেকে এটাকে সর্দি বললেও এখনকার স্মার্ট তরুণ প্রজন্মরা মিষ্টি করে বলে ড্যানিশ, বা নাকের ড্যানিশ।

এই সর্দি বা নাকের ড্যানিশ দিয়ে চা বানিয়ে পরিবেশন করানোর সময়ই হাতেনাতে ধরা খেয়ে শাহাবুদ্দিন নামে এক দোকানদার। রাজধানীর মগবাজার এলাকায় রাস্তার পাশে একটি দোকানে সে চা সিগারেট কেক বিস্কিট কোমল পানীয় বিক্রয় করে। শাহাবুদ্দিনের জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে আরো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

শাহাবুদ্দিন শুধু আজকেই নাকের সর্দি দিয়ে চা বানায়নি। প্রায় এগারো বছর যাবৎ সে তার নাকের সর্দি দিয়ে দুধ চা বানিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আসছে। ঘটনার শুধু হয় শাহাবুদ্দিনের শরীরে সর্দি ও অ্যালার্জিগত কিছু সমস্যার মাধ্যমে। বছরকয়েক পেরিয়ে গেলেও শাহাবুদ্দিনের সর্দি কোনোভাবেই সারেনা। একপর্যায়ে শাহাবুদ্দিন এই সর্দিকে অপচয় না করে কাজে লাগানোর কথা ভাবলেন। বেরিয়ে এলো ষড়যন্ত্রের কালো বৃত্তমন্ডিত আলোকরেখা। তারপর থেকেই শাহাবুদ্দিন কনডেন্স মিল্কের খালি কৌটায় নাকের সর্দি জমিয়ে রাখতেন এবং রাতে স্যাকারিন মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিয়ে পরেরদিন চায়ের লিকারের সাথে মিশিয়ে মানুষকে দুধ-চা বুঝিয়ে খাওয়াতেন।

অনেকে দুধ বাড়িয়ে দিতে বলত। এতে শাহাবুদ্দিন আনন্দিত হতেন এবং খুশিমনেই দু চামচ সর্দি কাপে তুলে লাড়িয়ে দিতেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শাহাবুদ্দিন ছিলেন দেওয়ানবাগীর ফ্যান। মানুষকে নানানরকম সূফি, আধ্মাতিক ও ধর্মীয় উপদেশ বাণী শোনাতেন। জ্ঞানের কথা বলতেন। কিন্তু তলে তলে যে শাহাবুদ্দিন সামনে মেয়ে নিয়ে হুন্ডা চালায়, এটা কেউ ভাবতেই পারেনি কখনো।

শাহাবুদ্দিনকে এখন বাটা জুতা দিয়ে মারধর করে বাইতুল মোকাররম মসজিদের সামনে শুইয়ে রাখা হয়েছে। শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত, শুয়ে শুয়েও টাকা ভিক্ষুক হবার ভনিতা করে টাকা কামাচ্ছেন শাহাবুদ্দিন।