Exclusive

গুড়া কৃমি হলে কি করবেন?

আমরা হচ্ছি পাছা চুলকানো জাতি। রাস্তায় বান্ধবীকে নিয়ে হাঁটছেন। হঠাৎ করেই দেখতে পেলেন, আপনার সামনের লোকটি পাছা চুলকাচ্ছে। বান্ধবীর সামনে আপনি হেয় প্রতিপন্ন হলেন। কি লজ্জার ব্যাপার। বা ধরুন, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন। হঠাৎ আপনার নিজেরই পাছা চুলক‍ালো। আমি দাঁত মুখ খিচে বসে আছেন। ঘেমে অস্থির অবস্থ‍া ! কেনো এমন হয়? আপনার গুড়া কৃমি হয়েছে…

গুড়া কৃমি কেনো হয়? চলুন জেনে নেয়া যাক…

গুড়া কৃমি হবার কারণ

  • দূষিত পানি বা দূষিত খাবার খেলে।
  • রান্নার পূর্বে শাকসবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি ভালভাবে না ধুয়ে রান্না করলে।
  • সাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার না করলে।
  • পায়খানার পর, অথবা খেলাধুলা বা কাজকর্মের শেষে এবং খাবার খাওয়ার পূর্বে সাবান দিয়ে ভালভাবে হাত পরিস্কার না করলে।
    অন্যের পোশাক, তোয়ালে বা রুমাল ইত্যাদি ব্যবহার করলে।

গুড়া কৃমির চিকিৎসা

কৃমি আছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে মল পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। পায়খানা বা বমির সঙ্গে কেঁচো কৃমি বের হলে অথবা রাতে মলদ্বার চুলকালে ধরে নেয়া যায় যে, তার গুড়া কৃমি আছে। যদি মল পরীক্ষার সুযোগ কিংবা সামর্থ্য না থাকে তাহলেও কৃমি আছে এরূপ সন্দেহ হলে মল পরীক্ষা না করিয়েও কৃমির ঔষধ খাওয়া যেতে পারে। তবে চিকিৎসা গ্রহনের আগে মল পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া ভালো৷ গর্ভবতী মহিলা, জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে কৃমির ঔষধ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বয়সভেদে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ঔষধ খেতে হবে৷

গুড়া কৃমি প্রতিরোধে করনীয়

গুড়া কৃমি প্রতিরোধে নিম্নলিখিত বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে –

  • নিয়মিত গোসল করতে হবে এবং পরিষ্কার জামা কাপড় পরিধান করতে হবে।
  • সবসময় বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার খেতে হবে।
  • নখ বড় রাখা যাবে না। কারন- অনেক ক্ষেত্রেই বড় নখের কারনে কৃমির ডিম নখের সাহায্যে পেটে প্রবেশ করতে পারে।
  • রান্নার পূর্বে ভালোভাবে শাক সবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি ধুয়ে তারপরে রান্না করতে হবে।
  • খাবার রান্না ও পরিবেশনের সময় অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালভাবে হাত ধুতে হবে।
  • মল ত্যাগের পর অবশ্যই সাবান বা ছাই দিয়ে হাত ভালভাবে পরিস্কার করতে হবে।
  • জন্মের প্রথম ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
  • অবশ্যই বাইরে যাওয়ার সময় জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করতে হবে।
  • মল নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।
  • পায়খানা বা টয়লেট সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • প্রতি চার মাস অন্তর পরিবারের সবাইকে বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রার কৃমির ঔষধ খাওয়াতে হবে।
  • বাড়িতে কৃমি আক্রান্ত কেউ থাকলে সকলেরই সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরকম ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শমত সবাইকে কৃমির ঔষধ খেতে হবে।

আসুন রাস্তাঘাটে পাছা চুলকানোর ঝামেলা থেকে বাঁচতে আজই সতর্কতাবশত গুড়া কৃমির একটি চেকআপ করিয়ে নেন। এবং সচেতন থাকতে সর্বদা উপরের নিয়মগুলে‍া মেনে চলুন।