Entertainment, Funny

শিশুশিল্পী জরডি’র করুণ জীবন কাহিনী

জরডি এল নিনো পোল্লা ,  ২৪ বছর বয়সী এ অভিনেতাকে এখনো অনেকে ‍শিশুশিল্পী হিসেবেই ভাবেন। দেখে বুঝার উপায় নেই সেই ছোট্ট বাবুটা আজ এত বড় হয়ে গেছে ! দেখতে একেবারে আগের মতই আছে। নিশ্চয়ই ধরে ফেলেছেন কার কথা বলছি? (জরডির সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও)

হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। বিদেশি সিনেমার সোনালী পর্দার অভিনেতা জরডি এল নিনো পোল্লার কথাই বলছি। পুরোটা পড়ে জেনে নিন শিশুশিল্পী জরডি’র করুণ জীবন কাহিনী !

২০১৩ সালের এক বিকেলে জরডি বাদাম খেতে খেতে টেলিভিশন দেখছিলো। হঠাৎ একটি বিজ্ঞাপন তার নজর কেড়ে নেয়। এডাল্ট সিনেমা নির্মাণের জন্য তারকা খুঁজছে একটি স্টুডিও। জরডি তখনো বুঝতে পারেননি তিনি আসলে কিসের মধ্যে জড়াতে যাচ্ছেন। বরং এ বিষয়টি ত‍ার কাছে আনন্দদায়কই মনে হয়। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই জরডি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন নায়ক হবার।

বায়োডাটা জমা দেয়ার সাথে সাথেই স্টুডিও ফেকিংস তাকে ডেকে নেয়। জরডির আসল নাম এঞ্জেল মুনোজ। ডাকনাম জরডির শেষে জুড়ে দেয়া হয় এল নিনো পোল্লা (স্প্যানিশ ভাষ‍ায় ‘এল নিনো পোল্লা’ এর অর্থ হচ্ছে ‘নুনু বালক’ বা ‘পুরুষাঙ্গ বালক’)। সেখান থেকেই এঞ্জেল মুনোজ হয়ে যায় জরডি এল নিনো পোল্লা !

জরডি বুঝতে পেরেছিলেন তিনি পর্নোগ্রাফীর জগতে জড়িয়ে গেছেন, যেখান থেকে বের হবার আর কোনো উপায়ও নেই। বের হয়ে গেলেও তার ঘাম ঝরানো অভিনয়ে নির্মিত ভিডিও ক্লিপসগুলো ঠিকই রয়ে যাবে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া প্রতিবেশীর ফোনে। তাই তিনি এ পথকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে এগোতে শুরু করেন।

শিশুশিল্পী জরডি এল নিনো পোল্লা
Jordi El Nino Polla

জরডি তখনও কেবল একজন শিশুশিল্পী, যার অভিনয় কারোই পছন্দ হত না। ২০১৬ সালে জরডি একদিন মজার ছলে ব্রেজার্স স্টুডিওর টুইটার পেজে ম্যাসেজ পাঠিয়ে অভিনয় করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এবং ম্যাসেজে নিজের অভিনিত একটি ভিডিও পাঠান। এখান থেকেই তার কপাল খুলে যায়। স্টুডিও ব্রেজার্স জরডিকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। একবছর, অর্থা‍ৎ মাত্র ৩৬৫ দিনের ম‍াঝেই জরডি ১০৩টি পর্নোগ্রাফিক সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বরেকর্ড করে ফেলেন। সেই সাথে ২০১৭ সালের সবচেয়ে সফল ইয়াং মেল পর্নস্টার হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাইস পত্রিকার ফিচারে একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সহ তার নাম ছাপা হয় ! বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে যান Jordi El Nino Polla !

স্পেনে জন্মগ্রহণ করা এই শিশুশিল্পী বর্তমানে ২৪ বছর বয়সে পদার্পন করলেও তাকে এখনো শিশুশিল্পী বা Young male actor হিসেবেই অবিহিত করা হয়। বর্তমানে নিজের পরিবারের সাথে জরডির কোনো সম্পর্ক নেই। নায়কের খাতায় নাম লেখানোর পরপরই জরডির আব্বু আম্মু জরডিকে ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। এ প্রসঙ্গে ভাইস এর সেই সাক্ষ‍াতকারে তিনি বলেছিলেন, “খুবই হতাশ লাগে যখন নিজের অভিনিত সিনেমাগুলো পরিবারের কাউকে দেখাতে পারিনা, ফেসবুকে কারো সাথে শেয়‍ার করতে পারিনা। এই কষ্টগুলো আমাকে ক্লান্ত বানিয়ে দেয়। তবে হ্যাঁ, যখনই আমি ক্লান্ত হয়ে যাই, তখনই আমি আমার গালে আম্মুর দেয়া সেই জুতার বাড়িগুলোর কথা ভাবি। এবং আমি আমার উদ্যম, স্পৃহা পুনরায় ফিরে পাই।