International

সৌদি নারীদের প্রথম পছন্দ বাংলাদেশি পুরুষ!

সৌদি নারীদের প্রথম পছন্দ- সৌদি পুরুষদের স্বামী হিসেবে কমই পছন্দ করেন সে দেশের নারীরা। দাম্পত্য জীবনে স্থিতি ও নিরাপত্তার জন্য সৌদি নারীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিদেশিদেরই স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে চান। বেশির ভাগ সৌদি নারীই চান না তাদের বিয়ে ডিভোর্স কিংবা স্বামীর বহুবিবাহের কারণে শেষ হোক।

এছাড়া একটি নির্দিষ্ট বৃত্তের বাইরে গিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনেক স্বাধীনতা পাওয়া যায় এ ক্ষেত্রে। সে জন্যই স্বামী হিসেবে বাংলাদেশী পুরুষদেরই বেশি পছন্দ সৌদি নারীদের। জরিপ রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে সৌদি আরবের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আরব নিউজ। হাদি মাক্কি নামের এক হাসপাতালের নার্স বলেন, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এড়াতে ও বিবাহবিচ্ছেদের হার বেশি হওয়ায় অগণিত তরুণী সৌদি পরিবারে বিয়ে করতে ভয় পান। অনেকে চান বিদেশে গিয়ে আরেকটু স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে, যা তারা নিজেদের সমাজে পারেন না। সৌদি অনেক নারীই আরবের অন্য দেশের পুরুষদের বিয়ে করেছেন। আরবের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সত্তার মধ্যে মিল থাকায় এটি সম্ভব হয়েছে। তবে গভীর উপজাতীয় শেকড় যাদের মধ্যে বিদ্যমান, তারা খুব কমই নিজের সংস্কৃতির বাইরের মানুষকে বিয়ে করতে আগ্রহী আইন পরামর্শদাতা আবদুল আজিজ দাশমান বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কুয়েতের বেশি নাগরিককে বিয়ে করেছেন সৌদি নারীরা। ২০১২ সালের এক জরিপে এমন তথ্য পাওয়া যায়। তবে উপসাগরীয় নয়, এমন দেশগুলোর মধ্যে ইয়েমেনের পুরুষরাই বেশি বিয়ে করেছেন সৌদি নারীদের। এছাড়া দেখা গেছে, অন-আরব কাউকে বিয়ে করার ব্যাপারে সামাজিক টাবু থাকা সত্ত্বেও ১১৮ সৌদি নারী পাকিস্তানিদের বিয়ে করেছেন। তবে তিনি আরো জানান, অনেক সৌদি নারীর কাছে সৌদি নন এমন পুরুষদের বিয়ে করাটা অনেকটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো বিষয়। তবে এক্ষেত্রে আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। তিনি নারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাদের অর্থের ওপর আগ্রহ আছে এমন পুরুষের প্রতি যাতে তারা ঝুঁকে না পড়েন। নোরা নামের এমন এক সৌদি নারী নিজ সংস্কৃতির কাউকে বিয়ে না করার কারণে আক্ষেপে পুড়ছেন। তিনি বলেন, আমি যদি আমার আত্মীয়দের কথা শুনতাম তবেই ভাল হতো।

খাইরিয়াহ আলি নামের ভিনদেশী পুরুষকে বিয়ে করা এক সৌদি নারী বলেন, তিনি ও তার সন্তানরা এখন আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছেন। কেননা, অভিবাসী স্বামী তার নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে এক ঝামেলায় জড়িয়ে এখন জেল খাটছেন। এছাড়া এ ধরনের দম্পতির সন্তানের নাগরিকত্ব নিয়েও সমস্যা হয়। সৌদি শূরা পরিষদের সদস্য সাদাকাহ ফাদেল জানান, প্রায় ৭ লাখ সৌদি নারী বিদেশী বিয়ে করেছেন, যা মোট বিয়ে করা সৌদি নারীদের ১০ শতাংশ। শূরা পরিষদ সৌদি নারীদের বিদেশি স্বামী বা পুরুষদের বিদেশি স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব সম্পর্কিত আইন পরিবর্তন করতে চাইছে। তবে অনেকে আশঙ্কা করছেন, এ আইনের অপব্যবহার হতে পারে। সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের জন্য সৌদি নারীদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে যে বিধি নিষেধ ছিল সেটা তুলে নিয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশীরাও বিয়ে করতে পারবেন সৌদি নারীদের! সৌদি আরবে পুরুষদের তুলনায় নারীর সংখ্যা অনেক বেশি। সৌদি পুরুষরা একাধিক বিয়ে করলেও অবিবাহিত থেকে যাচ্ছে সেদেশের অনেক নারী। এমন এক পরিস্থিতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের জন্য সৌদি নারীদের বিয়ে করার বিধি নিষেধ তুলে নিয়েছে। তবে এজন্য ‘স্পেশাল এক্সপ্যাক্ট’ সিস্টেমে তাদেরকে পূর্ব হতেই নিবন্ধন করতে হবে। প্রবাসীরা শুধু সৌদি নারীদের বিয়ে করার সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে তারা পেনশনসহ বেতন সুবিধাও ভোগ করতে পারবেন! আমিরাতে সাহসিকতার পুরস্কার পেলেন প্রবাসী বাংলাদেশি:: তিন বছরের এক শিশুর জীবন বাঁচিয়ে অসাধারণ সাহস ও বীরত্ব দেখিয়ে ‍পুরস্কার পেয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে বসবাসরত এক বাংলাদেশি। ফারুক ইসলাম নূর আল হক (৫৭) নামের ওই ব্যক্তি পেশায় ঢালাই শ্রমিক। সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তাঁকে পুরস্কৃত করে আজমান সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় দৈনিক খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজমানের নুয়াইমিয়াহ এলাকায় গত শনিবার রাতে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় আশপাশের মানুষের চিৎকারে ফারুক দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে এসে ভবনটিতে আটকে পড়া এক শিশুকে রক্ষা করেন। স্থানীয় অপর এক পত্রিকাকে ফারুক বলেন, ‘ভবনটির তৃতীয় তলায় বাস করা এক নারীর চিৎকারে আমি তাকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। সেখানে অনেক মানুষের ভিড় ছিল, কিন্তু কেউ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেনি। সে সময় ওই নারী ও তাঁর সন্তানকে বাঁচানোর জন্য আমি মনের ভেতর থেকে তাগিদ অনুভব করি।’ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফারুক আরো বলেন, ‘আগুন দ্রুত বাড়িটির চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছিল। একটি বড় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ওই নারী তার শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে চিৎকার করে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলেন। সে দৃশ্য দেখে আমি আমার দুই হাত বাড়িয়ে দেই। আমাকে দেখে সে তার সন্তানকে বাঁচানোর জন্য নিচে ফেলে দেয়।’ ‘অবশেষে শিশুটিকে নিরাপদভাবেই আমি ধরতে সক্ষম হই। আশপাশের লোকজন সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে হাতে তালি দিতে থাকে। আমি খুবই কৃতজ্ঞ অনুভব করি কারণ আমার জীবনে ভালো কিছু করতে পেরেছি,’ বলেন ফারুক।

পরে শিশুটির মাও নিচে ঝাঁপ দেন এবং পার্ক করা একটি গাড়ির ওপর পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তাঁকে খলিফা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা-ভাঙচুর চালালো প্রবাসীরা: কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাঙচুর করেছে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা। এতে দূতাবাসের কাউন্সিলরসহ তিনজন আহত হন। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকরা দূতাবাসের এইচওসি এবং কনস্যুলার আনিসুজ্জামানকে মারধর করেছে। আঘাত গুরুতর হওয়ায় কনস্যুলারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া কনস্যুলারকে বাঁচাতে গিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার আরো তিন কর্মকর্তাও মারধরের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ দূতাবাস ঘিরে রেখেছে কুয়েত পুলিশ। দূতাবাস ঘেরাও ও ভাঙচুরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘সকালে অফিসে এসেই দেখতে পাই দুই থেকে তিনশ লোক দূতাবাসের ভেতরে ও বাইরে জমায়েত করেছে। আমি গাড়ি থেকে নামার পরই আট থেকে ১০ জন তাদের সমস্যার কথা বলতে শুরু করেন।’

আবুল কালাম আরও বলেন, ‘আমি তাদের জানাই, “তোমরা পাঁচ থেকে সাত জনের একটি টিম আমার সঙ্গে কথা বলতে রুমে আসো।” কথামতো তারা আমার রুমে আসে। রুমে এসে তারা লেসকো কোম্পানিতে তাদের তিন মাসের বেতন বকেয়াসহ বিভিন্ন কথা জানায়। আমি ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনি এবং নোট নেই।’ রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘প্রতিনিধিদলের সামনেই লেসকো কোম্পানির কর্মকর্তাদের ডেকে আনি। ওই সময় লেসকো’র কর্মকর্তা জানান, গত বছরের জুলাই থেকে লেসকোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ (ফ্রিজ) রয়েছে। দুইদিন আগে লেসকোর জব্দ অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। তাই আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বকেয়া বেতন- ভাতা পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের আকামার অগ্রগতির বিষয়টিও জানায় তারা। লেসকো কোম্পানির কর্মকর্তার কথায় প্রতিনিধিদলটি আশ্বস্ত হয়। এরপরও দূতাবাসের কনস্যুলার আনিসুজ্জামান ও তিন কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়েছে।’ প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে ভিড় করতে শুরু করেন লেসকো কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশিরা। রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম অফিসে এসে গাড়ি থেকে নামার সময়ই শ্রমিকরা স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন। মাঝখানে লেসকো কোম্পানির প্রতিনিধি এসে যোগ দেন। আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার পরই লেসকো কোম্পানির প্রতিনিধিকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে যান কনস্যুলার আনিসুজ্জামান। তখন ঘেরাও করে রাখা বাংলাদেশি শ্রমিকরা কনস্যুলারকে মারধর করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও তিনজন কর্মকর্তা শ্রমিকদের হাতে আক্রান্ত হন। এ ছাড়া পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার আসবাবপত্র ও কম্পিউটার তছনছ করা হয়। দূতাবাসের অনেক কম্পিউটার ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘটনার সময় কুয়েত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে বাংলাদেশ দূতাবাস ঘিরে রেখেছে।

দূতাবাসের এমন অবস্থায় রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম বলেন, ‘কম্পিউটারগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাই কি দিয়ে কনস্যুলার শাখার কার্যক্রম চলবে? এটা মাথায় আসছে না। দেশের সম্পদ দেশের মানুষ নষ্ট করা কি ঠিক?

শ্রমিকরা জানান, লেসকো কোম্পানিতে কাজ করতে কুয়েতে আসেন তারা। চার মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। তাদের আকামা বা পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। এজন্য সমস্যার মুখে পড়েছেন তারা। এসব সমস্যার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন চার শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিক।\

 

Source – BD Time