Bangladesh

প্রেমিকার চেয়েও বেশি প্রতারণা করে ভিক্ষুকরা : বলছে গবেষণা

সম্প্রতি ব্যক্তিগতভাবে চালানো এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, এখন নাকি প্রেমিকার চেয়েও বেশি প্রতারণা করছে ভিক্ষুকরা ! শিশু কোলে নিয়ে ভিক্ষা করা অনেক ভিখারীকে দেখেই আমরা চেইন খুলে (ব্যাগের) টাকা বের করে তাদের হাতে ধরিয়ে দেই।  ‍কিন্তু টাকা হ্যান্ডওভার করার পর বাচ্চার বোগলে সুড়সুড়ি দিলে দেখা যায়, এদের সুড়সুড়ি লাগছেনা। এরা ঘুমাচ্ছে। তাহলে ঘটনা কি? বাচ্চাগুলোকে কি তারা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ভাড়া করে এনে ভিক্ষাবৃত্তি চালাচ্ছে?

মগবাজারের খসরুল নামে এক বেকার যুবকের গবেষণা থেকে বেরিয়ে ‍আসে অনেক তথ্য। ফেসবুক থেকে সংগ্রহিত খসরুলের সেই দীর্ঘ গবেষণার তথ্যগুলো পড়ুন বিস্তারিত –

“এই ঘুম আমার অনেকটা চেনা। জারুল ঘেরা এই লম্বা পথ (শাহবাগ থেকে মৎস ভবন) জীবনে অনেক সমৃদ্ধি এনে দিলেও অবশেষে কেড়ে নিয়েছে আমার সুখটা। ঐ ঘুমটা একবার, দুইবার, তিনবার দেখার পর থেকে আমার মনে সুখ নেই, চোখে ঘুম নেই।

এরআগে জীবনে ৫ বার মায়ের পিত্তথলির অপারেশনের পরে একবার আর বৌয়ের একাধিক সিজারিয়ান সহ আরো ৪ বার এই মোট ৫ বার খুব কাছে থেকে এনেস্থিসিয়ার প্রভাবে গভীর ঘুম আমি দেখেছি। দেখেছি একদম শিয়রে বসে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে। এই ঘুম আমার খুব চেনা। এই ঘুম চিনতে আমার বেগ পাওয়ার কথা না।

আগে দেখেছি দুইবার, তখন নিয়মিত বাসে চড়ে অফিস যেতাম। মতিঝিল থেকে ধানমন্ডি ফেরার পথে শাহবাগের অবধারিত জ্যামে বসে হরেক রকমের হকারের পসরা বিক্রির বৈচিত্র্যময় কলাকৌশল দেখতে ভালোই লাগত। এরই মাঝে দুই বার দেখেছি এক মহিলা তার কোলে ওই রকম বেঘোরে ঘুমানো আনুমানিক ৪ বছর বয়সী একটি ফুটফুটে বাচ্চাকে তার নিজের বাচ্চা এবং অসুস্থ দাবি করে লোকের কাছে সাহায্য চাইছে।

তারপর বহুদিন আর বাসে চলাচল করিনা। এখন চলি বাইকে জ্যামের ভয়ে। হঠাৎ আজ আবার বাসে ফিরছিলাম আর আজই সেই একই দৃশ্য দেখলাম। ছোট একটা মাসুম বাচ্চাকে বিভৎস রকমের ঘুমে আছন্ন করে ওই পিশাচ মহিলা তার মুখে নেকাব লাগিয়ে লোকের কাছে সাহায্য চাইছে। আমি বললাম বাচ্চাটা সবসময় ঘুমায় কেনো? মহিলা তার বাজখাঁই গলায় খেঁকিয়ে বললো, তাতে আপনের কি !

বাসায় ফিরে কিছু খোঁজেখবর নিয়ে যা জানলাম তাতেই আমার চিত্তের সুখ একেবারে বিনষ্ট হয়ে গেছে। এরা নাকি একটা বিরাট চক্র। এরা দিনের পর পর ঐসব বাচ্চাদের ঘুমের ঔষধ আর নেশা দ্রব্য খাইয়ে সারা দিন ঘুম পাড়িয়ে নির্বিঘ্নে তাদের ভিক্ষাবৃত্তি চালিয়ে যায়। কিছুদিন এভাবে চলার পর ঐ বাচ্চাটা মারা গেলে আবার নতুন বাচ্চা নিয়ে তারা হাজির হয়। বাচ্চা ম্যানেজ করে চুরি কিংবা অতিদরিদ্র পিতামাতার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে।

আমার চোখের সামনে এখন সারাক্ষণ ভাসে ওই নিষ্পাপ ফুটফুটে মানব শিশুর বেহুশ মুখচ্ছবি। যে শিশুটা দেখে না ফুলপাখিদের ক্যাচক্যাচানিতে মুখরিত সুন্দর সকাল। জানে না বৈশাখের তপ্ত দুপুরে তার সমবয়সীরা কিভাবে মেতে উঠে জলকেলিতে, নগরীর ওই সড়ক দ্বীপের ফোয়ারাতে। সে এটাও জানেনা বিকেল বেলা মনের সুখে খেলতে হয়, সন্ধ্যাবেলা বই নিয়ে পড়তে হয়।

এই পৃথিবীর কারোও কি অধিকার আছে তার শৈশব চুরি করার, তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার? আমি কি কল্পনা করতে পারি আমার আদরের বুকের মানিকটাকে ওই ডাইনীর কোলে? তবে সেই শিশুটিও তো কারো না কারো বুকের মানিক। আমার কিংবা আমাদের কি কিছুই করার নেই ওই শিশুটির জন্য? কখনো কি পারবো ওই শিশুকে ফিরিয়ে দিতে তার সুখের শৈশব?”